MENU

Fun & Interesting

ধর্ম চক্র প্রবর্তন সূত্র || ভদন্ত তিলোকাবংশ মহাস্থবির ও ভিক্ষু সংঘ - Dhormo Chakra Prabartan Sutra🙏🏼

পরিত্রাণ 17,495 lượt xem 2 years ago
Video Not Working? Fix It Now

#ধর্ম_চক্র_প্রবর্তন_সূত্র #বুদ্ধবাণী #পরিত্রাণ

মহাকারুনিক তথাগত বুদ্ধের প্রথম দেশনাটি হলো ধর্মচক্র প্রবর্ত্তন সুত্র। যা বুদ্ধের আচরিত জীবন দর্শনের আলোকে জগতের সকল সত্ত্বগণের প্রতি অনুকম্পা পরবশ হয়ে পঞ্চবর্গীয় শিষ্য ও ১৮ কোটি দেব ব্রহ্মা সহ সকলের উদ্দেশ্যে দেশনা করেছেন। যা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী এবং মুক্তির পথ অন্বেষণে একটি জীবনমূখী শিক্ষা। চারিআর্য্য সত্য দর্শন, কার্য-কারণ নীতি ও আর্য-অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণে জীবন পরিচালনা করার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা। সেজন্য ইহা অতীত প্রাচীন এবং বুদ্ধের মৌলিক শিক্ষার সারগর্ভ বক্তব্য, আমাদের দেশে খুব কম সংখ্যক লোকই পাওয়া যেতে পারে এ সুত্রটি সম্পর্কে জানেন না। অনেকে এ সুত্রটি কন্ঠস্থ পাঠ করতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায় গ্রামে, বিহারে, বাড়ীর মধ্যে ভিক্ষুদের আহবান করে সুত্রটি পাঠ করা হয়। বৌদ্ধ প্রতিরূপ দেশগুলোকে এ সুত্রটি গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করে তার উপর আলোকপাত করা হয়। আমরা যারা নিত্যময় সংসারে জন্মলাভ করে ভোগ বিলাসময় জীবন অতিবাহিত করছি তাদের যথার্থভাবে ধর্ম আচরণ হয় না। আর যদি আমরা যথার্থভাবে ধর্ম অনুশীলন করে জীবন গঠন করতে পারতাম তাহলে সবকছিুতে অনাবিল সুখ শান্তি লাভে জীবন অর্থবহ হত। সেজন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী প্রসারিত করে জন্ম যাতে নিম্নগামি না হয় সেক্ষেত্রে সবসময় সজাগ থাকতে হবে।

বুদ্ধের দেশনা সমূহকে তিন ভাগে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, এদেরকে তিপিটক বা ত্রিপিটক বলা হয়। তিনটি ভাগ হল যথাঃ
(১) সূত্র পিটক বা ব্যবহারিক দেশনা
(২) বিনয় পিটক বা আজ্ঞা দেশনা এবং
(৩) অভিধর্ম পিটক বা পরমার্থ দেশনা

আলোচ্য বিষয়টি হলো, ‘ধর্মচক্র প্রবর্ত্তন সুত্র’ এটি সুত্র পিটকের অন্তর্গত। সূত্র পিটক পাঁচটি নিকায়ে বা খন্ডে বিভক্ত। সেগুলি হল ঃ দীর্ঘ নিকায়, মধ্যম নিকায়, সংযুক্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায় এবং খুদ্দক নিকায়।
সংযুক্ত নিকায় পাঁচটি বর্গে বিভক্ত, যেমনঃ স গাথা বর্গ, নিদান বর্গ, খন্ধ বর্গ, ষড়ায়তন বর্গ এবং মহাবর্গ। আবার মহাবর্গকে ১২টি অধ্যায় বা উপবর্গে ভাগ করা হয়েছে। যেমনঃ মার্গ সুংযুক্ত, বোধ্যঙ্গ সংযুক্ত, স্মৃতি প্রস্থান সংযুক্ত ইত্যাদি। সর্বশেষ সংযুক্তের নাম হল সত্য সংযুক্ত।
ধর্মচক্র প্রবর্ত্তন সুত্র গৃহীত হয়েছে সত্য সংযুক্ত উপবর্গের দ্বিতীয় বর্গ থেকে এবং ইহা ৬ষ্ঠ সংগীতির প্রারম্ভে পাঠ করা হয়েছিল। ত্রিপিটকের ৬ষ্ঠ সংগীতি সংস্করণে এ সূত্রটি সংযুক্ত নিকায়ে তৃতীয় খন্ডে ৩৬৮ পৃষ্টা থেকে ৩৭১ পৃষ্টায় সংরক্ষিত হয়েছে। এ সূত্রের ভূমিকায় “এবং মে সুতং, একং সময়ং ভগবা” আমার দ্বারা এরূপ শ্র“ত হয়েছে, এক সময় এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইহা ছিল বুদ্ধের পরিনির্বাণের ৩ মাস পরে রাজগৃহের সপ্তপর্নী গুহায় অনুষ্ঠিত প্রথম ধর্ম সংগীতি প্রধান মহাকাশ্যপ স্থবিরের দ্বারা জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তরে ভদন্ত আনন্দ স্থবিরের উত্তরের সূচনা বাক্য। ভদন্ত মহাকাশ্যপ স্থবির আনন্দ স্থবিরকে বলেছিলেনঃ “বন্ধু আনন্দ! কোথায় ভগবান বুদ্ধ ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র দেশনা করে ছিলেন। কার দ্বারা এ সূত্র দেশিত হয়েছিল? কাদেরকে উপলক্ষ করে এবং কেমন করে ইহা দেশনা করা হয়েছিল?
উত্তরে ভদন্ত আনন্দ স্থবির বলেছিলেন, - “ভদন্ত মহাকাশ্যপ” আমি এরূপ শুনেছি, একসময় ভগবান বারাণসীর ইসিপতন (১) মৃগদাবে অবস্থান করছিলেন, তখন ভগবান পঞ্চবর্গীয় ভিক্ষুদের আহবান করে বললেন, “ভিক্ষুগণ! দু’টি চরম পথ প্রব্রজিতদের দ্বারা সেবন করা উচিত নয়।”
কখন সূত্রটি দেশনা করা হয়েছিল
সূত্রের ভূমিকায় কোথাও সূত্র দেশনার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি, অন্যান্য সূত্রের মত এ সূত্রেরও কেবল প্রদত্ত হয়েছে “একদা” অথবা “একসময়”। প্রত্যেক সূত্রের দেশনা শুরুতে সংক্ষিপ্ত হলে ও ধারাবাহিকভাবে যদি সূত্রের দিন তারিখ বছর ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকত তাহলে খুবই ভাল হত। যে ভাবে সূত্র সমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তাতে কোন্ সূত্র, কখন দেশনা করা হয়েছে তা নির্ণয় করা কঠিন।
ধর্মচক্র প্রবর্ত্তন সূত্রের সঠিক তারিখ নিরূপন করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কেননা এ সূত্রটি ভগবানের প্রথম ধর্মদেশনা এবং সূত্র ও বিনয় পিটকে এ সূত্র দেশনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। আজ থেকে ২৫৫০ বছর পূর্বে ভগবান কুশীনগরে মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। বুদ্ধত্ব লাভের পর ভগবান ধর্ম প্রচার করেছিলেন ৪৫ বছর। ২৫৫০ বছরের সাথে ৪৫ বছর যদি যোগ করা হয় তাহলে দাঁড়ায় ২৫৯৫ বছর । অতএব, ভগবান ধর্ম চক্র সূত্র দেশনা করে ২৫৯৫ বছর পূর্বে আষাঢ়ী পূর্ণিমার রাত্রির প্রথম যামে।
মৃগবনে এ সূত্র দেশনা করা হয়েছিল। এখানে মৃগ বা হরিণদের নিরাপদে নির্বিঘেœ বিচরণের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কাজেই এ স্থানে বন-জঙ্গল থাকা স্বাভাবিক। বর্তমানে তথায় কোন বন-জঙ্গল দৃশ্য হয় না। সরকার এখানে একটি মৃগ উদ্যান করে রেখেছে। উদ্যানের চারিদিকেই রয়েছে জনবসতি। অতীতে পচ্চেক বুদ্ধগণ তাঁদের ঋদ্ধিশক্তির প্রভাবে হিমালয়ের গন্ধমাদন পর্বত আকাশ মার্গে এসে এ নির্জন মৃগবনে অবতরণ করতেন। সে রকম অতীতের বুদ্ধগণও আকাশ মার্গে এসে একই স্থানে অবতরণ করতেন এবং একই স্থানে প্রথম ধর্ম দেশনা করতেন। এজন্য এ স্থানের নামকরণ হয় ইসিপতন বা ঋষিপতন।
সূত্রের ভূমিকায় বলা হয়েছে ভগবান পঞ্চবর্গীয় ভিক্ষুদের বারানসী শহরের ইসিপতন মৃগবনে সূত্র দেশনা করেছিলেন। এ পর্যন্তই আমরা সূত্রের ভূমিকায় তথ্য পেয়ে থাকি। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক সর্ব প্রকার রোগ ব্যাধি উপদ্রভ থেকে মুক্তি হয়ে নির্বাণ যাবার চিত্ত উৎপত্তি হোক (সাধু সাধু সাধু)

🙏🏼ধর্ম চক্র প্রবর্তন সূত্র🙏🏼
কন্ঠে : - ভদন্ত তিলোকাবংশ মহাস্থবির ও ভিক্ষু সংঘ

বৌদ্ধ শাসন চিরজীবি হোক ।
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
#সাবসক্রাইব_করে_সাথেই_থাকবেন।

Comment