MENU

Fun & Interesting

বেহুলা লক্ষিন্দারের বিয়ের পর্ব

Parvez Hasan JP 467 1 week ago
Video Not Working? Fix It Now

বাংলাদেশ এক ঋদ্ধ ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার দেশ। এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা পরিবেশনা লক্ষ্য করা যায়। কোনো কোনো পরিবেশনা ধর্মীয় কৃত্যমূলক, আবার কোনো কোনো পরিবেশনা ধর্মীয় কৃত্যের উত্তরণ ঘটিয়ে এক সমন্বয়বাদী পরিবেশনায় রূপ নিয়েছে। তেমনি একটি পরিবেশনা ‘পদ্মার নাচন’। এই পরিবেশনা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার নওদা বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের রেজাউল হক সলক। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা, মিরপুর ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মনসামঙ্গলের কাহিনি অবলম্বনে ‘পদ্মার নাচন’ পরিবেশিত হয়। ‘পদ্মার নাচন’ নৃত্য, গীত, বর্ণনা এবং সংলাপ ও প্রতিসংলাপের মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়। এই পরিবেশনায় নৃত্যের প্রভাব বেশি। নৃৃত্যের ক্ষেত্রে ছুুকরিগণ মূল ভূমিকা পালন করে। সাধারণত পদ্মার নাচন মানতের পালা, মানতের জন্য এই পালা আয়োজিত হয়। রোগ ও বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য এই পালা আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে ঘা হলে তা থেকে মুক্তির জন্য পদ্মার নাচন আয়োজন করা হয়। আবার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অনেকে এই পালা আয়োজন করে থাকেন। কুষ্টিয়া অঞ্চলে এই পরিবেশনার প্রচলন সম্পর্কে রেজাউল হক সলক বলেন, “পাবনা থেকে এই পরিবেশনা কুষ্টিয়াতে নিয়ে আসেন মিরপুরে কেউপুর গ্রামের রিয়াজউদ্দিন মালিথা। আবার কারো মতে, এই অঞ্চলে পদ্মার নাচন প্রবর্তন করেন লাল চাঁদ ও কালা চাঁদ। বংশ পরম্পরায় এই পরিবেশনা কুষ্টিয়া অঞ্চলে পরিবেশিত হয়। বর্তমানে রিয়াজউদ্দিন মালিথার বংশধরদের মধ্যে হোসেন আলী ও চঞ্চল ফকির এই পরিবেশনা অব্যাহত রেখেছেন।” মনসামঙ্গলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা প্রচলিত। এই পরিবেশনাসমূহ হচ্ছে-  ‘পদ্মপুরাণ গান’, ‘রয়ানি’, ‘মনসার পাঁচালি’, ‘ভাসান গান’, ‘বিষহরির গান’, ‘বেহুলার নাচারি’, ‘ভাসান যাত্রা’, ‘মনসার ভাসান যাত্রা’ ইত্যাদি। বাংলা মঙ্গলকাব্যসমূহের মধ্যে মনসামঙ্গল সবচেয়ে প্রাচীন পরিবেশনা। অনার্য দেব-দেবীর আখ্যানমূলক পরিবেশনা ‘মঙ্গলকাব্য’ নামে পরিবেশিত হয় বাংলার মুসলিম বিজয়ের পর। ত্রয়োদশ শতক থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ বছর মঙ্গলকাব্যসমূহ রচিত ও পরিবেশিত হয়। এ ধারার আদিকবি কানা হরিদত্ত। ত্রয়োদশ শতকের শেষ ভাগ বা চতুর্দশ শতাব্দীর প্রারম্ভে তিনি সাহিত্য সাধনা করেছেন বলে গবেষকরা মনে করেন।  ‘পদ্মার নাচনে’র পুরো পালার জন্য সাতরাত সাতদিন সময় প্রয়োজন। পরিবেশনাটি সাত পর্বে বিভক্ত। পর্বসমূহ হলো: ১. শিব ও পার্বতীর পালা ২. পদ্মার পালা ৩. বাজার পালা ৪. বিয়ের পালা ৫. মৃত্যুর পালা ৬. ঘাটের পালা ও জিয়দানের পালা  ‘শিব ও পার্বতীর পালা’ অংশে শিব মুগ্ধ হয় দুর্গার রূপে। এই মুগ্ধতার ফলে নিজ বীর্য পদ্মপাতায় রেখে দেন। বাসুকী সে পদ্মপাতা থেকে গর্ভবতী হয়। জন্ম নেয় মনসা। ধ্যানমগ্ন শিবের সামনে নৃত্য করে মনসা। শিবের ধ্যান ভঙ্গ হয়, মনসার রূপে মুগ্ধ শিব তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পদ্মা জানায় যে, সে শিবকন্যা। শিব তখন পদ্মাকে লুকিয়ে রাখে ধ্যানঘরে। পার্বতী খুঁজে বের করে পদ্মাকে, কন্যা তাঁকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে। কিন্তু সৎ মা পদ্মার বাঁ চোখ শূলের আঘাতে কানা করে দেয়। পার্বতীর কথায় শিব নিজ কন্যাকে বনবাসে পাঠায়। এ সময় কালীদহ বিষাক্ত হয়। ফলে শিবের সারা শরীর বিষাক্ত হয়। পদ্মা সুস্থ করে দেয় শিবকে। পিতার কাছে দেবীর আসন চায়, তখন শিব কন্যাকে বলে, যদি সে চাঁদ সওদাগরের পূজা আনতে পারে তবে তার উদ্দেশ্য সফল হবে।  ‘পদ্মার পালা’ অংশে পদ্মা পূজা আনতে যায় চাঁদ সওদাগরের কাছে। কিন্তু শিব ভক্ত চাঁদ মনসাকে পূজা না দিয়ে ‘কানি’, ‘ব্যাঙ খাকি’ বলে অপমান করে। চাঁদ ও তার ছয়পুত্রসহ বাণিজ্যের তরি ডুবিয়ে দেয় পদ্মা। চাঁদ সওদাগর বেঁচে ফিরে আসে। সায়মন বেনের ঘরে জন্ম নেয় বেহুলা এবং চাঁদ সওদাগরের ঘরে জন্ম নেয় লখিন্দর।  তৃতীয় পালা ‘বাজার পালা’। ছদ্মবেশী পদ্মার পরামর্শে লখিন্দর নিছানী নগরে ইছামতীর তীরে নবরত্ন বাজার স্থাপন করে। উল্লেখ্য, বাজারটি সায়মন বেনের ছিল, এই অচল বাজার তাঁর অনুমতি নিয়ে পুনরায় সচল করা হয়। মনসা কৌশল করে বেহুলাকে সে বাজারে নিয়ে যায়। বেহুলা পুতুল কিনতে আসে, মুগ্ধ হয় লখিন্দর। সে বিয়ে করতে চায় সায়মন বেনের কন্যাকে। ‘বিয়ের পালা’ পর্বে লখিন্দরের কথা সনেকা জানায় স্বামীকে। সওদাগর ঘটক পাঠায় সায়মন বেনের কাছে। সায়মন প্রথমে রাজি হয় না। চাঁদ সওদাগর নিজে সায়মন বেনের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যায়। অবশেষে তিনি বিয়েতে সম্মতি দেন। মহাধুমধান করে বিয়ে হয় লখিন্দর ও বেহুলার।  ‘মৃত্যুপালা’ হয় সাধারণত পঞ্চম রাতে। বেহুলা ও লখিন্দরের জন্য লোহার বাসরঘর নির্মাণ করা হয়। বেহুলার স্বামীকে বিয়ের রাতে কালনাগিনী দংশন করে। লোহার বাসর ঘর থেকে যাবার সময় বেহুলা তার লেজ কেটে রাখে। সকাল হলে বিভিন্ন স্থান থেকে ওঝা ডাকা হয়। কেউ লখিন্দরকে বাঁচাতে পারে না।  ষষ্ঠ পালার নাম ‘ঘাটের পালা’। চাঁদ সওদাগরের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে বেহুলা মৃত স্বামীকে কলার ভেলায় ভাসিয়ে চলে। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেহুলা একে একে উদাসিনী ঘাট,। কাকের ঘাট, শিয়াল শকুনের ঘাট, গোদার ঘাট ইত্যাদি অতিক্রম করে ইন্দ্রের রাজসভায় উপস্থিত হয়।  ‘

Comment